আমরা অনেকেই ভাবি আগামীকাল ফজর নামাজ পড়ব। আর যাই হোক, এবার ফজর মিস দিব না। কিন্তু ঘুমের ঘোড় যেন কাটেই না ফজরের সময় এলে। এলার্ম অফ করে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি, স্মরণ করাই কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ‘ফজর আর করব না কাজা‘ বইতে ড. রাগেব সারজানি চমৎকার ১০টি কৌশল আলোচনা করেছেন। যেগুলো পরীক্ষিত। কেউ যদি এই ১০টি কাজ করে, তাহলে তার ফজর মিস হবার সংখ্যাটা দিনকে দিন কমেই আসবে ইনশাআল্লাহ। টিপসগুলো আমরা সরাসরি বইয়ের ভাষায় না বলে ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করছি, যাতে বুঝতে সুবিধা হয়:

(১) আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ হন; আল্লাহ পাকের যথাযোগ্য মর্যাদা হৃদয়ে ধারণ করুন। এটা ছাড়া গতি নেই। যখন আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্বের অনুভূতি আপনার অন্তরে পোক্ত হবে, তখন তাঁর জন্য ভোরে জেগে উঠাও আপনার জন্য সহজ হবে।

(২) ফজরের নামাজ আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করুন; চেষ্টা করব উঠার’ না বলে বলুন ‘আমি উঠবই ইনশাআল্লাহ’। প্রতিদিন নিজের আমলের হিসাব নিন। যেদিন ফজর মিস হবে, সেদিন নিজেকে জরিমানা করুন। হতে পারে বড় অঙ্কের অর্থ দান সদকা করবেন, অথবা পরের দিন রোজা রাখবেন, মোটকথা যেই কাজ আপনার জন্য কঠিন, সেটা বেছে নিন।

(৩) গুনাহ হতে তাওবা করুন; গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার মজবুত প্রতিজ্ঞা করুন। কারণ, গুনাহ যত বেশি হয়, আমলের তাওফীক তত কমে আসে। আমল করার মনোবল আসে না। গড়িমসি কাজ করে।

(৪) আল্লাহ যেন আপনাকে ফজরের নামাজের অমূল্য সম্পদ নসিব করেন, এজন্য প্রচুর দুআ করুন। দুনিয়াবি প্রয়োজনের জন্য আপনি যেভাবে নাছোড়বান্দা হয়ে আল্লাহর কাছে প্রতিদিন দুআ করছেন, ঠিক সেভাবে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ফজরের নামাজের জন্য দুআ করুন। তাওফীক চেয়ে কাঁদুন। ফজরের কেবল দুই রাকাত সুন্নতের মর্যাদা দুনিয়ার সবকিছুর চাইতে মূল্যবান। কাজেই ভাবুন, এর জন্য খাস দুআ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ!

(৫) নেককারদের সাথে উঠাবসা করুন। এতে আমলের আগ্রহ বাড়বে। তাদের দেখাদেখি আপনারও মনে চাইবে প্রথম কাতারে নামাজ পড়তে। অন্যদিকে বদকারদের সাথে উঠাবসা বেশি করলে অন্যদের মতো আপনিও দেখবেন নামাজের সময় বাহিরেই আড্ডাবাজী করছেন। আযানের ধ্বনীতে আপনার টনক নড়বে না।

(৬) সুন্নাত পদ্ধতিতে ঘুমানোর চর্চা করুন। আগে আগে শুয়ে পড়ুন, ওজুর সঙ্গে ঘুমান, ডান কাতে শয্যাগ্রহণ করুন। হিসনুল মুসলিম বই বা অ্যাপ থেকে ঘুমের আগের দুআগুলো পড়ে নিন এবং অন্যদেরকে নিজের নতুন ঘুমের পদ্ধতি সম্পর্কে জানান। যাতে তারা আপনাকে জাগিয়ে না রাখে।

(৭) ঘুমের আগে বেশি খাবেন না। চেষ্টা করবেন ঘুমের ৩ ঘণ্টা আগেই খাওয়া দাওয়া শেষ করতে। আর রাতে চা-কফি ইত্যাদি উত্তেজক পানীয় সম্পূর্ণ পরিহার করুন। আপনি বলতে পারেন, এগুলোর কারণে আপনার সমস্যা হয় না। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন, ডিপ স্লিপ বা গভীর ঘুমের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। আর ডিপ স্লিপ দিতে না পারলে স্বাভাবিকভাবেই পরের দিন আপনার শরীর ম্যাজম্যাজ করবে, ফজরের সময় উঠতে আলসেমি কাজ করবে।

(৮) ফজরের নামাজের ফজিলত সম্বলিত বিভিন্ন হাদিস ও বাণী কার্ডে লিখে আপনার কামরায় সেঁটে দিন। মাঝে মাঝেই সেগুলোতে চোখ বুলান। কারণ, আমাদের নফস ভালো জিনিস খুব কমই স্মরণ করে।

(৯) অ্যালার্ম ঘড়ি, টেলিফোন ও কলিং বেল—এই তিন সতর্কধ্বনির সহায়তা গ্রহণ করুন। বর্তমানে অনেক চমৎকার চমৎকার অ্যাপ এসেছে, যেখানে কিছু কাজ বেঁধে দেওয়া যায়। কাঙ্ক্ষিত সময়ে অ্যালার্ম যখন বেজে উঠবে, সেই নির্দিষ্ট কাজগুলো না করা পর্যন্ত অ্যালার্ম বন্ধ হবে না। মোটকথা আপনাকে বাধ্য করবে ঘুম থেকে যথাসময়ে উঠতে।

(১০) অন্যকেও ফজরের নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ করুন, শুরু করুন নিজের পরিবার হতে। পরিবারের সবাই যখন নামাজি হয়, তখন ফজরের নামাজে সবার উঠাও সহজ হয়ে যায়। কেউ উঠতে না পারলে অন্যজন জাগিয়ে দেয়। আপনার পরিবারেও এই প্র্যাকটিস শুরু করুন।

তথ্যসূত্র: বই- ফজর আর করব না কাজা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
admin

admin

Leave a Reply

নতুন লেখা